ইন্টার্নদের ধর্মঘট: বৃদ্ধি পাচ্ছে রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু সংখ্যা

ইন্টার্নদের ধর্মঘটের কারনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টর এ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চলছে। এতে চার দিন ধরে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এমবিবিএস শেষ করে রামেক হাসপাতালে ২১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করছেন। এ ছাড়া আগেই এমবিবিএস শেষ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ না করা আরও প্রায় ৬০ চিকিৎসক এফসিপিএস ও এমডিএমএস কোর্স করছেন। তাঁরা সবাই গত রোববার থেকে কর্মবিরতিতে আছেন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা না থাকলেও অন্য চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন।

কিন্ত বাস্তবে তার বিপরীদ প্রমান বহন করছে। বুধবার সকাল ১০.৩০টার সময় ডায়রিয়া আক্রান্ত মাহমুদুল ইসলাম নামের এক রোগী মারা গেছে। উন্নত চিকিৎসা নিতে পাবনা থেকে তিনি এ হাসপাতালে এসে ১৭ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। ওয়ার্ডে ভিতরে জায়গা না পেয়ে তাকে রাখা হয়েছিল বারান্দার মেঝেতে। মৃত ব্যাক্তির মা নুরুন্নাহার গনমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাত ১০.৩০টার দিকে তার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই সময় চিকিৎসক ছিলেন না। বুধবার সকাল ১০.৩০টার সময় চিকিৎসক আসার কিছুক্ষণ পরেই তার ছেলে মারা যায়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন চিকিৎসক তার সন্তানের চিকিৎসা করেননি বলে অীবযোগ করেছেন মৃত ব্যাক্তির মা। একইভাবে মোহনপুর উপজেলার রহিমাপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের পুত্রবধূ রোকসানা বেগম জানান, তার শ্বশুর স্ট্রোক করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১১.৩০টার দিকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলেও বুধবার বেলা ১১.৩০টা পর্যন্ত অসুস্থ রোগী কোন চিকিৎসকা পাইনি। তাদের পাশেই দুজন রোগী মারা গেছে শুধু সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভাবে। অপর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রোগির স্বজন লিপি রানী বলেন, তার রোগীকে ডায়ালাইসিস করাতে হবে। কিন্ত রামেকের বাজে অবস্থার কারনে তাদের পাশ থেকে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে শুধু ডাক্তারের অভাবে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন,চিকিৎসক না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঠিক নয়। রামেক মিড লেভেলের ডাক্তাররা রাত ও দিন পরিশ্রম করছেন। এই হাসপাতাল অনেব বড়, রোগীর কাছে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার সময় দিতে হবে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪৯৮ জন। এইদিন নতুন ভর্তি হয় ৭৯০ রোগী। যার মধ্যে মারা যায় ৩৪ জন। এই হাসপাতালে রোগীর সুস্থতার হার ৯৮ শতাংশ। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনের মৃত্যু স্বাভাবিক যার গড় ২ শতাংশের কম।

শেয়ার করুন:

Recommended For You