প্লাস্টিকের শেষ গন্তব্য যেন সমুদ্র সৈকত : সচেতনতা সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ

আজ ৮ জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবস। এই দিন পরিবেশকে সুস্থ রাখার, সাগর-মহাসাগরগুলিকে পরিষ্কার রাখার জন্য অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু আদৌ কি হয়? না-কি সব আয়োজন একদিনেই সীমাবদ্ধ!
এদিকে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ। এ জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে যেদিকে দৃষ্টি যায়, কেবলই প্লাস্টিকের ভেসে আসা আবর্জনা। প্লাস্টিকের এসব আবর্জনার জন্য সৈকতে নামাও যেন দুষ্কর। যাতে বিরক্ত পর্যটকরাও। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যের শেষগন্তব্য সমুদ্র সৈকত।
প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে স্বাভাবিক রঙ হারাচ্ছে সাগরের পানি। সাগরের প্রতিদিনকার সরেজমিন চিত্র দেখা যায়, বালিয়াড়িতে মিলছে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ফেলে দেয়া অসংখ্য প্লাস্টিকের পানির বোতল, ওয়ানটাইম চায়ের কাপ, মাস্ক ও পলিথিন। বিকল্প না থাকায় ক্ষতিকর এই পণ্যের ব্যবহারও বন্ধ হচ্ছে না। ফলে বিপদ বাড়ছে সৈকতের শহরে।
পরিবেশবাদীদের দাবি, সৈকতের সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা তৈরিতে প্রশাসন উদাসীন। অবশ্য প্রশাসন গতানুগতিকভাবে সৈকতের প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে।
কক্সবাজার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা শহর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কক্সবাজার এবং সমুদ্র সৈকত উভয়ই দূষিত হচ্ছে। এখানে প্লাস্টিক ব্যবহার বেড়ে গেছে যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
পরিবেশ সংগঠনের নেতা মো. জসিম বলেন, প্রতিদিন উন্মুক্তভাবে সমুদ্র সৈকতে হাজার হাজার খালি বোতল, চিপস-বিস্কুটের প্যাকেটসহ নানা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এখানে অবশ্যই প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। প্রশাসন যদি কঠোর না হয় তাহলে সৈকতের সৌন্দর্য্য রক্ষা হবে না, পরিবেশও বিনষ্ট হবে।
পরিবেশকে কি আর একদিনে সুস্থ করে তোলা সম্ভব? যে পৃথিবীর উপর যুগের পর যুগ অত্যাচার হয়ে আসছে, তাকে আর একটি বিশেষ দিনে যত্ন করে কী হবে? যে ব্যক্তিটি বাজারে যাওয়ার সময় ব্যাগ না নিয়ে প্লাস্টিক চেয়ে আনেন, তাকে আর কীভাবে পরিবেশ নিয়ে ভাবানো সম্ভব? প্লাস্টিক বর্জ্যে সাগর কতটা দূষিত হয়ে চলেছে জানেন? প্রতি বছর কত প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে ফেলা হয়? প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, অপচনশীল আবর্জনা দিনের পর দিন সাগরে গিয়ে জমা হচ্ছে। আর তার প্রভাব কার উপর পড়ছে?
বলতে গেলে এর  সঠিক উত্তর হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর পড়ছে। সোজা কথায় এতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজ ৮ জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবস। এই দিন পরিবেশকে সুস্থ রাখার, সাগর-মহাসাগর পরিষ্কার রাখার জন্য অনেক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু আদৌ কি হয়? নাকি সব আয়োজন একদিনেই সীমাবদ্ধ!
আপনি সমুদ্র থেকে যত দূরেই থাকুন না কেন, সমুদ্রের উপর নির্ভর করেই আছেন। বেশিরভাগ মানুষই খাদ্যের জন্য সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল।
সমুদ্র আমাদেরকে কি দিচ্ছে জানেন?
অক্সিজেন আর কার্বন-ডাইঅক্সাইড তো আছেই। এছাড়াও আমাদের বেশিরভাগ খাদ্য ও ঔষুধের উৎসও হলো সাগর ও মহাসাগরগুলো। মহীসোপান (Continental Shelf) থেকে বিশেষ করে এইডস, ক্যান্সার, ম্যালেরিয়াসহ বহু রোগের ঔষধের উপাদান পাওয়া যায়। ডায়মন্ড, ফসফেট, সালফার, লৌহ, হাইড্রোকার্বন, কার্বন এনার্জি রিসোর্সের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।
কেন পালিত হয় এই দিনটি?
১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে বছরই প্রথম বারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব সমুদ্র দিবসের পালনের বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
সাগর-মহাসাগরকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। আমাদের অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা হলো এসব সাগর আর মহাসাগর। সমুদ্রের এই অবদান, আবেদন, প্রয়োজনীয়তা আর উপকারিতাকে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বের সবার সামনে তুলে ধরতে প্রতি বছর ৮ জুন পালন করা হয় বিশ্ব সমুদ্র দিবস।
পৃথিবীর সব প্রাণের সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নির্ভর করে সামুদ্রিক পরিবেশে সুরক্ষিত থাকার ওপর। আর এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জঞ্জাল ফেলার জায়গাটির নাম সমুদ্র।

Recommended For You