
ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা ভোট পাস করেছেন ফরাসি আইনপ্রণেতারা। গতকাল বুধবার এ ভোট হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী মিশেল বার্নিয়েকে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার মাস তিনেকের মাথায় সরে যেতে হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নিয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার এই প্রস্তাব প্রতিপক্ষ দলগুলো এনেছিল। এর কারণ, বার্নিয়ের বিতর্কিতভাবে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সংসদে বিনা ভোটে বাজেট পাস করিয়েছিলেন।
ফরাসি গণমাধ্যম বলছে, বার্নিয়া আজ বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করবেন। এমনটি করলে ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্র শুরুর পর থেকে তার সরকারই হবে সবচেয়ে কম বয়সী সরকার।
অনাস্থা ভোটের আগে সংসদে মিশেল বার্নিয়ে বলেন, এই (ঘাটতির) বাস্তবতা একটি অনাস্থা প্রস্তাবের জাদুর দ্বারা অদৃশ্য হবে না। বাজেট ঘাটতি যে কোনো পরবর্তী সরকারের জন্যও সমস্যার কারণ হবে।
এদিকে কঠোর বামপন্থী ফ্রান্স আনবোয়েড (এলএফআই) দল ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। তিনি বলেন, আমি ম্যাক্রোঁর পদত্যাগের জন্য চাপ দিচ্ছি না। প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ ধীরে ধীরে বাড়বে। কেবল তিনিই এই সিদ্ধান্ত নেবেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলে জানিয়েছে এলিসি প্রাসাদ।
সর্বশেষ আপডেট পেতে ভিজিট করুন https://worldglobal24.com/
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বার্নিয়েরকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাবটি পাস করতে ২৮৮ ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ৩৩১ জন সংসদ সদস্য বার্নিয়েরের বিষয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
এখন বার্নিয়ের তার সরকারকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য। আর যে বাজেটের জন্য এত কিছু হয়ে গেলো, এই ঘটনার কারণে সেটিও বাতিল হয়ে গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না করা পর্যন্ত অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের ইতিহাসে সংসদে অনাস্থা ভোটে হেরে সরকার পতনের ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৬২ সালে। কয়েক দশক পরে দেশটিতে ফের এই পরিস্থিতি তৈরি হলো। এর মাধ্যমে দেশটিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ল।