
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৭২ বছরেও বরগুনার পাথরঘাটায় ১৬৮ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। মহান ভাষা দিবসের দিন এলাকার হাজারো শিক্ষার্থীকে অস্থায়ীভাবে কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফুল দিতে যায় দূরের কোনো শহীদ মিনারে। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা-ও হয় না। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে সেগুলো সারা বছর পড়ে থাকে অযত্নে-অবহেলায়। ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হলেই এই সকল প্রতিষ্ঠানে শুরু হয় অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনারের নির্মাণের কাজ।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুসারে, পাথরঘাটা ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৩ টিতে আছে স্থায়ী শহীদ মিনার আর বাকি ১৪৬ নেই শহীদ মিনার। একইভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, উপজেলার শিক্ষা অফিসের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪ টি। ২৯টি স্কুল, ১৮টি মাদ্রাসা ও ৭টি কলেজ। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার আছে ২৯ টি নেই ২২টি প্রতিষ্ঠানে।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, এটা খুবই দুঃখজনক। পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলামের বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা সম্ভব হচ্ছে না, আমি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবো। সেসব স্কুলের স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেব্রুয়ারির দিন অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করতে হবে।