
গ্রাম পুলিশ, বে-সরকারী স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগের নামে একটি প্রতারক চক্র চাকুরী প্রার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ প্রতারক চক্রের প্রতারনা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় বরগুনা জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। শুক্রবার বরগুনা জেলা প্রশাসক মুহাঃ রফিকুল ইসলাম এ গণবিজ্ঞপ্তি দেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ফিরে আসবে এবং নিয়োগে ঘুষ বানিজ্য ও অনিয়ম বন্ধ হবে। জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
জানাগেছে, গত ১৫ বছর ধরে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় গ্রাম পুলিশ, বে-সরকারী স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় নিয়োগ বানিজ্যের নামে বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা চাকুরী প্রার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না। নিরবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের কাছে তারা হয়রানীর শিকার হয়ে আসছে।

গত ৭ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা- ১(আমতলী-তালতলী ও বরগুনা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরোয়ার টুকু জয় লাভ করে। এরপর তিনি বিভিন্ন গণ সংবর্ধনায় নিয়োগ বানিজ্য ও ঘুস বানিজ্যের বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকুর এমন বক্তব্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে ঘুস নেয়া রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস জোগায়। পরে তারা বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে নিয়োগে ঘুস বানিজ্য ও নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগ দেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক এমন অভিযোগ পেয়ে এবং সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকুর নির্দেশনা মতে শুক্রবার নিয়োগে ঘুস বানিজ্য ও অনিয়ম বন্ধে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এ গণবিজ্ঞপ্তি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে সাধারণ মানুষ সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু ও বরগুনা জেলা প্রশাসকের ভুয়াসি প্রশংসা করেছেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মুহাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতারকদের প্রতারনা থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এ বিষয়ে মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা দ্রæতই উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করবেন।